প্রেম অপ্রেমের নিজাম প্যালেস

  প্রেম অপ্রেমের নিজাম প্যালেস

জয়নী হালদার : নিজাম প্যালেসের নামেই থরহরিকম্প।  শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে নিজাম প্যালেস। রোজভ্যালি,  সারদা থেকে নারদাকাণ্ড অথবা এসএসসিতে নিয়োগ দুর্নীতিতে মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়কদের হাজিরা দিতে হয়েছে এখানে অবস্থিত সিবিআই কার্যালয়ে। একসময়ে সপ্তম নিজামের বাসভবন ছিল নিজাম প্যালেস। নিজাম প্যালেসের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে আকর্ষণীয় ইতিহাস। যেখানে এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের দফতর একসময়ে  তা ছিল ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ। 

সুদূর মাউন্ট আরারতের দেশ থেকে আসা এক আর্মেনিয়ান জে সি গালস্টৌন এই প্রাসাদটি তাঁর স্ত্রীকে ভালোবেসে উপহার দেন। সেইসময়ে আজকের নিজাম প্যালেসের নাম ছিল গালস্টৌন পার্ক। পরে ১৯৩৩ সালে এটি কিনে নেন হায়দরাবাদের নিজাম উসমান আলি খান। 
এরপর উসমান আলি খান এই প্রাসাদের নাম দেন সাবা প্যালেস। পরে সাবা প্যালেসের নাম বদলে হয় নতুন নামকরণ হয় নিজাম প্যালেস। এই ভবনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন গালস্টৌন পার্ক হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য। নিজাম প্যালেসের নির্মাণকাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যেও রয়েছে বিতর্ক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজামশাহীর অবসান হয়। হায়দরাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলে কলকাতার নিজাম প্যালেস সরকারি সম্পত্তি হয়েছে। ইতিহাসবিস্মৃত জাতি বলে বাঙালির বদনাম রয়েছে। নিজাম প্যালেসের নির্মাণকাল ও মালিকানা হস্তান্তরের কোনও নথিই নেই পুরসভার কাছে।