টনক নড়ল কেন্দ্রের, স্বস্তি দিয়ে জ্বালানিতে শুল্ক ছাড় কেন্দ্রের

টনক নড়ল কেন্দ্রের, স্বস্তি দিয়ে জ্বালানিতে শুল্ক ছাড় কেন্দ্রের

আরোহী নিউজ ডেস্ক : জ্বালানির পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগার হয়েছিল আমজনতার। প্রভাব পড়েছিল বাজারে। অগ্নিমূল্যের বাজারে পকেটে টান পড়েছিল সাধারণ মানুষের। তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ। অবেশেষে টনক নড়ল মোদী সরকারের। পেট্রোলের ৮ টাকা এবং ডিজেলের ৬টা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৯টাকা এবং ডিজেলের দাম কমবে ৭টাকা। আর রবিবার থেকেই কার্যকর হল জ্বালানির নতুন দাম। শুধু জ্বালানির দাম নয়, একই সঙ্গে গৃহিনীদের মন পেতে রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। উজ্জ্বলা যোজনায় আওতায় থাকা রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ভর্তুকি মিলবে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ টাকা। বছরে ১২টি সিলিন্ডার পর্যন্ত মিলবে এই ভর্তুকি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে দেশ প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন। কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর ইতিমধ্যে নিজেদের ঢাক পেটাতে শুরু করেছে মোদী সরকার। কেন্দ্র জনগনের পাশে রয়েছে বলে সওয়াল করেছে তারা। আরও একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করেন তিনি। শুল্ক কমানোর আর্জি জানান কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী।

যদিও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এর পিছনে রাজনৈতিক যোগ দেখছেন তাঁরা। কেননা, চলতি বছরের শেষের দিকে গুজরাত, হিমাচল সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে মানুষের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা ইভিএমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি তাদের। আর সেই আশঙ্কায় কেন্দ্রের শুল্ক ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন রাজনৈতিক কারবারিরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ভোটের আগে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও, ভোট এগিয়ে আসতে জ্বালানির দামে রাশ টেনেছিল মোদী সরকার। কিন্তু ভোটপর্ব মিটতেই ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় জ্বালানির দাম। দোসর হিসেবে দেখা দেয় রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধি। রান্নার গ্যাসের দাম হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোমড় বেঁধে নামে তৃণমূল সহ বিরোধী শিবির। চাপে পড়ে গেরুয়া শিবিরও। চাপের মুখে কার্যত পিছু হটল মোদী সরকার, উঠছে এমনই দাবি।