রাজীব আমার ছোট ভাইয়ের মতো, ফিরহাদের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বাড়াচ্ছে ঘরওয়াপসির জল্পনা

61

আরোহী নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:  রাজীব আমার ছোট ভাইয়ের মতো। দেরিতে বোধোদয় হলেও তা ভালো। অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট এবং তার দল বদল এর সম্ভাবনাকে আরো খানিকটা উস্কে দিয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তবে তিনি দলে ফিরবেন কিনা অথবা ফিরলেও দল তাকে গ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে অবশ্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বেশ শুরু হতে শুরু করেছেন বেশ কিছু নেতা-নেত্রী। এদিকে,বেশ কিছুদিন ধরেই অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের ঘরওয়াপসি সম্ভাবনা ঘনিয়ে উঠেছে। এদিকে সম্প্রতি বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকেও গরহাজির থাকতে দেখা গিয়েছে তাকে। এরপর এই তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই বৈঠকের বেশ কিছুক্ষণ পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরেও জল্পনা ছড়ায়।

সেই ফেসবুক পোস্টে দেখা গিয়েছে কার্যত গেরুয়া শিবিরের সমালোচনা করেই শাসকদলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “সমালোচনা তো অনেক হলো। মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে, কথায় কথায় দিল্লি আর 356 ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না”। এরপরেই ওই একই পোস্টে তিনি লেখেন, “রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সকলের উচিত কোভিদ ও ইয়াস এই দুই দুর্যোগে বাংলার মানুষের পাশে থাকা”।

তবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরওয়াপ সিনিয়র সোজাসুজি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন রাজ্যের অন্য আর এক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন এক অনুষ্ঠানে ফিরহাদ বলেন, “রাজীব আমার ছোট ভাইয়ের মতো। কেন ও বিজেপিতে গেল তা আমার কাছে অনেক বড় বিস্ময়। তবে দেরিতে হলেও যদি বোধোদয় হয় তাহলে তা ভালো লক্ষণ।”মন্ত্রী জানান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে যাওয়ার দুদিন আগেও কেবিনেট বৈঠকে কথা হয়েছে তার সঙ্গে। কিন্তু তার পরেই তার এই সিদ্ধান্ত একেবারেই আশ্চর্যজনক।

এর পরেই ফিরহাদ হাকিম কে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে দল এ স্বাগত জানানো হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, “আমি দলের স্বাগত জানানোর কেউ নই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে রাজিবের তরফ এখনো কোনো আবেদন আসেনি”। একই সঙ্গে তার কটাক্ষ, “দেরিতে বোধোদয় হলেও ভালো কিন্তু অনেকের তো সেই বোধোদয় টুকুও হয়না”।

প্রসঙ্গত, ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ডোমজুড় থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেও ভোটে পরাজিত হন তিনি। 2 রা মে ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে বিজেপি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই মঙ্গলবার তার বেসুরা টুইট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিভিন্ন মহলে কানাঘুষো চর্চা হতে থাকে তবে কি ফের তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন রাজীব! এই জল্পনা 24 ঘন্টা না কাটতেই ডোমজুড়ে তার বিরুদ্ধে পোস্টার পরে।