মমতার সঙ্গে বৈঠকে কি নিয়ে হল আলোচনা, মুখ খুললেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকইত

47

আরোহী নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:  বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয়ের পর গতকাল নবান্নে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাকেশ টিকাইত। তবে তাদের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেই নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন এই কৃষক নেতা। দেশে বিজেপি কে হারাতে গেলে অবিজেপি দলগুলিকে যে আরও শক্তিশালী হতে হবে সেই কথাও বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গতকালের বৈঠকে মূলত কি কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে রাকেশ টিকাইত বলেন, “মমতাকে আমরা বলেছি দেশের বিরোধীদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা এখন পথে বসে আছি। যদি বিরোধীরা শক্তিশালী হতো তাহলে কৃষকদের পথে বসতে হতো না।”

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই কৃষক আন্দোলনের নেতা দেখা করা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে গতকালের বৈঠক নিয়ে উভয় পক্ষই মুখ না খোলায় সেই জল্পনা বেড়েছে আরও খানিকটা। এরপর সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক নিয়ে জবাব দিলেন রাকেশ টিকাইত। এদিন তিনি আরও বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি, কোনও দলের প্রধানের সঙ্গে নয়। আমরা প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার এবং পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারের সঙ্গেও আমরা দেখা করব”। একই সঙ্গে এই কৃষকনেতা বিরোধীদের কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ” আমি কি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছি যে ভারত সরকারের অনুমতি নেব? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কি ভিসার প্রয়োজন আছে নাকি”?

মোদির কৃষক আইনের বিরোধিতায় যখন উত্তাল দেশ তখন দিল্লির কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দিল্লিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের পাঠিয়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যেও প্রতীকী আন্দোলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার দিল্লির বুকে কৃষক আন্দোলনের বর্ষপূর্তি হতে চলেছে।তাই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন কৃষক আন্দোলনের শীর্ষনেতারা।

এরাজ্যে ভোটের আগে মহা কৃষক পঞ্চায়েতের আয়োজন করেছিলেন রাকেশ টিকাইত। কলকাতা এবং নন্দীগ্রামে জোড়া সভা করেন তিনি। যদিও এই আন্দোলন বামঘেঁষা বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। তবে ভোটের ফলে বামেরা এরাজ্যে শূন্য। সর্বভারতীয় স্তরে মোদি বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছে মমতা। আর এই সাক্ষাতেই জল্পনা আরও উসকে উঠেছে। এরপর কৃষক আন্দোলন আরও এক নতুন মাত্রা নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখল করতে বিজেপি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঠিক একইভাবে লোকসভা নির্বাচনে ভারতের মসনদ দখলে মরিয়া হয়ে উঠবে ঘাসফুল শিবির তা বলাই বাহুল্য। তাই বিভিন্ন রাজ্যের ও বিজেপি দলগুলোর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছেন তা বলার অবকাশ রাখে না।