আরোহী নিউজ ডেস্ক :   দেশে সংশোধিত জরুরি অবস্থা চলছে। মোদি সরকার কে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিরোধী দল নেতারা। তাদের অভিযোগ দৈনিক ভাস্কর নামে সংবাদমাধ্যম কভিড পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের দুরাবস্থা নিয়ে সরব হয়েছিল। বিরোধীদের মতে কভিড পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের আসল সত্যিটা তুলে ধরেছে দৈনিক ভাস্কর। এখন সেই সত্যির মাশুল দিতে হচ্ছে তাকে।

অরুন সৌরি এই পরিস্থিতিকে বলছেন, অঘোষিত জরুরি অবস্থা। জয়রাম রমেশ টুইট করে বলেন সংশোধিত জরুরি অবস্থা। কংগ্রেস নেতা তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দ্বিগবিজয় সিং বলেছেন আয়কর হানা সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ। তার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তদন্তকারী সংস্থা গুলো অর্থাৎ আয়কর দপ্তর, ইডি এবং সিবিআইকে মিডিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রসঙ্গত দৈনিক ভাস্কর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক আর্টিকেল প্রকাশ করে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে উত্তর প্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান সহ বিভিন্ন রাজ্যে কি ভয়ংকর প্রাণহানি ঘটেছিল তা তথ্যসহ প্রকাশ করে দৈনিক ভাস্কর।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে টুইট করে বলেন, এমন অমানবিক আচরণ সংবাদমাধ্যমের এবং সাংবাদিকদের গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে এবং সততার সঙ্গে গোটা দেশের দুরাবস্থার খবর তথ্য সহ প্রকাশ করেছিল দৈনিক ভাস্কর। ফলস্বরূপ এই ধরনের আক্রমণ পাশবিক। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর হয়ে টুইট করেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে বলেন, এভাবে মিডিয়াকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এর থেকে পরিষ্কার যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে যে সরব হবে তাদের রেয়াত করা হবে না। এই ধরনের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। প্রত্যেকের এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা উচিত। প্রসঙ্গত একই দিনে 100 জনেরও বেশি আয়কর আধিকারিক দৈনিক ভাস্কর এর মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, রাজস্থান এবং গুজরাট সহ তিরিশটি অফিসে হানা দেয়। আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে দৈনিক ভাস্কর এর ভারত সমাচার টিভি চ্যানেলেও হানা দেয় আয়কর আধিকারিকেরা।