নিউটাউনের পুলিশ-দুষ্কৃতি গুলির লড়াই মনে করাল বাটলা হাউস এনকাউন্টার

117

অরিত্র ঘোষ, কলকাতা: নিউ টাউনের সাপুরজি আবাসনে বুধবারের দুপুরের ঘটনা অবাক করল কলকাতা উপনগরীকে৷ বুধবাসরীয় এই ঘটনা হার মানাল হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যকেও৷ কলকাতা মনে করতে পারছে না, এমন ঘটনা বঙ্গে আগে কখনও ঘটেছে কিনা৷ তবে এদিনের ঘটনা মনে করিয়ে দিল বাটলা হাউস এনকাউন্টারকে৷ মনে করিয়ে দিচ্ছে, ২০০৮ সালের দিল্লির জামিয়া নগরের কুখ্যাত বাটলা হাউসে ঠিক কী  ঘটেছিল৷ আর এই গোটা ঘটনায় রীতিমতো নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছেন সাপুরজি আবাসনের বাসিন্দারা।

বুধবার দুপুরে শহর কলকাতার নিউটাউনের সাপুরজি আবাসন সাক্ষী থাকল এক টানটান থ্রিলারের৷ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের অপারেশনে এনকাউন্টারে খতম হয়েছেন পাঞ্জাবের দুই গ্যাংস্টার জসসি খাড়ার এবং জয়পাল ভুল্লার৷

রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, গত মাসের ২২ তারিখ থেকে সাপুরজি আবাসনের ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত দুষ্কৃতীরা। তারা মে মাসের ১৫ তারিখ নাগাদ লুধিয়ানায় অস্ত্র ছিনতাই এবং দুই পুলিশ কর্মীকে খুন করে বাংলায় চলে আসে৷ তৎক্ষণাৎ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জয়পাল এবং তাদের সাগরেদদের মাথার দাম ঘোষণা করা হয় হাজার ১৯ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, এনকাউন্টারে নিহত জয়পাল ভুল্লারের বাবা ছিলেন পাঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন এসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর। জয়পাল নিজেও একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু ক্রমেই সে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে খুন সমস্ত কিছুতেই সিদ্ধ হয়ে পড়ে জয়পাল। এমনই তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। আর তারপরেই পাঞ্জাব পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে, এদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। আর তার ফলস্বরূপ বুধবার দুপুরে নিউ টাউন সাপুরজি আবাসনে অভিযানে যায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ৷ রীতিমতো হিন্দি সিনেমার মতোই চলে গুলি ও পাল্টা গুলির লড়াই৷ ঘটনায় পুলিশেরগুলিতে নিহত হয় দুজন দুষ্কৃতী৷ তবে, দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন এসটিএফের এক পুলিশ কর্তা।

এসটিএফের এডিজি বিনীত গোয়েল জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই দুষ্কৃতীদের খোঁজ করছিলাম। ঘটনাক্রমে বুধবারই আমাদের কাছে পাকা খবর আসে যে ওরা সাপুরজি আবাসনে লুকিয়ে আছে। তৎক্ষণাৎ আমরা দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য অভিযান চালায৷ কিন্তু যখন গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন ওরা গুলি চালাতে শুরু করে। আমরাও পাল্টা গুলি চালায়। গুলির লড়াইয়ে জয়পাল ভূল্লার ও জসসি খাড়ার মৃত্যু হয়। আমাদের একজন ইন্সপেক্টরের গুলি লেগেছে। দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৯ রাউন্ড গুলি, মোবাইল ফোন সহ ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।