দানিশ সাংবাদিক ছিলেন, একথা জেনেই তালিবানরা হত্যা করে তাকে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক মার্কিন ম্যাগাজিনের রিপোর্টে। ‘ওয়াশিংটন এক্সামিনার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী আফগান সেনার সঙ্গে ছিলেন দানিশ। তালিবানের এক হামলা সেই দলটিকে ভাগ করে দেয় দুটি অংশে। দানিশের স্প্রিংটার লাগায় স্থানীয় একটি মসজিদে তারা শেল্টার নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মসজিদে দানিশের উপস্থিতি জানতে পেরে পরিকল্পনা করে সেখানে হামলা চালায় তালিবানরা।

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, দানিশকে তালিবানরা জীবিত অবস্থায় আটক করেছিল। তাঁর পরিচয় সুনিশ্চিত করে তাঁকে নৃশংস ভাবে খুন করেছিল তালিব জঙ্গিরা। রিপোর্টটির লেখক মাইকেল রুবিনের দাবি, তাঁর কাছে ভারতীয় সরকার সূত্রে কিছু ভিডিয়ো এসেছে যা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে দানিশকে খুব বাজে ভাবে মারা হয়েছিল মাথায় এবং মুখে। তারপর তাঁর শরীর গুলিতা ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়।

এর আগে অবশ্য তালিবানের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ভারতীয় চিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা জানা নেই তাদের। পাশাপাশি তারা এমনও দাবি করে যে তারা যদি আগে থেকে জানতো যে আফগানদের সাথে সাংবাদিক রয়েছে তবে তারা তাকে নিরাপত্তা দিতে পারত। পাশাপাশি পুলিৎজারজয়ী দানিশের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশও করা হয় তালিবানের তরফে। গোষ্ঠীর মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘ওয়ার-জোনে ঢোকা যে কোনো সাংবাদিকের উচিত আমাদের জানানো। আমরা তাঁদের খেয়াল রাখব। ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যুতে আমরা দুঃখিত। এটা দুঃখের বিষয় যে সাংবাদিকরা আমাদের না যানিয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে ঢুকছেন।’

স্পিন বোডলাকের মূল বাজার এলাকাকে তালিবানদের সরাতে লড়াই শুরু করে আফগান সেনা। সেই সময় দানিশ সিদ্দিকি এবং এক আফগান আধিকারিকের মৃত্যু হয়। পরে দানিশের মৃতদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের হাতে হস্তান্তর করে তালিবান।