নিভছে না, মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে দুটি শিখা,  অমর জওয়ান জ্যোতি নিয়ে সাফাই কেন্দ্রের 

নিভছে না, মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে দুটি শিখা,  অমর জওয়ান জ্যোতি নিয়ে সাফাই কেন্দ্রের 

আরোহী নিউজ ডেস্ক : অমর জওয়ান জ্যোতি নিয়ে বিতর্কের মাঝেই সাফাই দিতে এগিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার । খরচ কমাতে ইন্ডিয়া গেটের ঐতিহ্যশালী ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’-কে  জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই নিয়েই দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে । কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, শহিদ জওয়ানদের স্মৃতিতে অর্পিত ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’ নিয়ে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে। ইন্ডিয়া গেটে রাখা চিরন্তন অগ্নিশিখা  নেভানো হচ্ছে না, তা শুধু জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে  রাখা অগ্নিশিখার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে শুক্রবার দুপুরে ইন্ডিয়া গেটে রাখা চিরন্তন অগ্নিশিখাকে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে রাখা অগ্নিশিখার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে । তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতিহাস মুছে ফেলে 'সেন্ট্রাল ভিস্তা'র নামে রাজধানীর ‘মোদিকরণ’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সেই আবহে শুক্রবার দিল্লির তরফে বিবৃত দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘অমর জওয়ান জ্যোতি নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। অদ্ভূত বিষয় হল, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুধুমাত্র অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করা হয়। কোথাও শহিদ জওয়ানদের নামের উল্লেখ নেই।

আর সেই নিয়ে যখন গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ঠিক সেই সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র টুইট করে বলেন, "শহিদ জওয়ানদের স্মৃতিতে অর্পিত ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’ নিয়ে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে। ইন্ডিয়া গেটে রাখা চিরন্তন অগ্নিশিখা  নেভানো হচ্ছে না, তা শুধু জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে  রাখা অগ্নিশিখার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।" 

সমালোচনার মুখে পড়ে তাদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করতে ভোলেনি বিজেপি সরকার। ব্রিটিশ নির্মিত ইন্ডিয়া গেট প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত তৎকালীন ব্রিটিশ বাহিনীর অংশ হিসেবে ভারতীয় সেনাদের উল্লেখ ঔপনিবেশিক শাসনেরই ধারক ও বাহক বলেও দাবি করেছে কেন্দ্র। তাদের যুক্তি, ‘ইন্ডিয়া গেটে যে মুষ্টিমেয় শহিদের নাম খোদাই করা রয়েছে, তাঁরা প্রথম বিশ্বয়ুদ্ধে এবং ইন্দো-আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশদের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন। তাই ইন্ডিয়া গেট ঔপনিবেশিক শাসনেরই প্রতীক। জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে ১৯৭১ এবং তার আগের এবং পরের ভারতীয় শহিদদের উল্লেখ রয়েছে। তাই জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখাই প্রকৃত অর্থে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।’