পুত্রসম পোষ্য শিম্পাঞ্জির হাতে ক্ষতবিক্ষত বন্ধু, ফোন গেল পুলিশের কাছে- তারপর ?

পুত্রসম পোষ্য শিম্পাঞ্জির হাতে ক্ষতবিক্ষত বন্ধু, ফোন গেল পুলিশের কাছে- তারপর ?
চার্লা ন্যাশের সঙ্গে ট্রিভাস

আরোহী নিউজ ডেস্ক : পোষ্য মানেই সে বাড়িরই সদস্য, তা সে কুকুর, বিড়াল, খরগোশ হোক বা বাঘ, সিংহ এমনকি শিম্পাঞ্জি ও। ঠিক সেরকমই ট্র্যাভিস ছিল সান্দ্রার পুত্রসম এক শিম্পাঞ্জি, যাকে সে ১৪ বছর ধরে সন্তান স্নেহে লালন-পালন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর পরিণতি যে এতটা করুণ হবে তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি সান্দ্রা। এমনকি পরিণতি এতটাই খারাপ হয় যায় যে তাকে গুলি করে হত্যা করার নির্দেশ পর্যন্ত দেন তিনি । 

সান্দ্রা জানান, চার্লা নামের তাঁর এক বন্ধু বাড়িতে এসেছিলেন, সেসময় হটাৎই ট্রাভিস তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ট্র্যাভিস তার চোখের পাতা খুবলে ফেলে এবং তার নাক ছিঁড়ে ফেলে। চার্লার চোখ খেয়ে ফেলে, তার একটি হাত পুরোপুরি চিবিয়ে ফেলে। মুখের চোয়াল তার মাথার খুলি থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা হয় গেছিল এবং তার মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। 

সান্দ্রা বহুবার ট্রাভিসকে অনুরোধ করলেও কথা শোনেনি সে, বরং টানা ১২ মিনিট ধরে নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছিল তাঁর ' মা ' - এর বন্ধুর ওপর। ইতিম্যেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে বুঝতে পেরেই পুলিশকে ফোন করে চার্লাকে বাঁচানোর জন্য কাতর আর্তি জানাতে থাকেন সান্দ্রা। এমন শুধু তাই নয়, পুত্রসম ট্রাভিসকে গুলি করে হত্যা করার আর্জি জানাতে থাকেন সে। পুলিশের সঙ্গে সান্দ্রার কথোপকথনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানেই সান্দ্রাকে এক নিঃশ্বাসে ঘটনার নৃশংসতার বিবরণী বলতে শোনা যাচ্ছে, "ট্রাভিস তাকে ছিঁড়ে ফেলেছে! তাড়াতাড়ি কর! তাড়াতাড়ি কর! দয়া করে! সে-সে তার মুখ ছিঁড়ে ফেলেছে! সে তার মুখ খাচ্ছে!" 

এরপরই সান্দ্রাকে পুলিশকে অনুরোধ করতে শোনা যায় যে,"বন্দুক নিয়ে এস! তাকে গুলি করতে হবে! প্লিজ ! প্লিজ! তাড়াতাড়ি! তাড়াতাড়ি! প্লিজ! আমি আর দেখতে পারছি না।.. সে তাকে খাচ্ছে! সে তাকে খাচ্ছে! প্লিজ! ঈশ্বর! তুমি কোথায়? তুমি কোথায়?"

এরপর পুলিশ এসে ট্রাভিসকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে চারবার গুলি করা সত্ত্বেও ট্র্যাভিস মারা যাননি। শেষপর্যন্ত নিজের বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে করতে মারা যায় সে । আশ্চর্যজনকভাবে, তার শিকার, চার্লা ন্যাশ সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে অন্য এক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গেছে,  চিকিৎসকরা সার্জারি করে তার মুখ নতুনভাবে ঠিক করবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু শেষপর্যন্ত চিকিৎসায় সাড়া দেননি চার্লা। মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন সে। 

ট্রাভিসের 'মা ' সান্দ্রা জানান, ট্রাভিস রীতিমত এলাকার সেলিব্রিটি ছিল । সে রেস্তোঁরায় গিয়ে গলদা চিংড়ি খেত।   তাঁর একটি পোষা বিড়ালও ছিলএবং একটি বাগানে উপর দিয়ে গাড়ি চালাতে পছন্দ করতেন  যেটা সেদিন সে উল্টে দিয়েছিল ৷ তবে কেন এমন টা হলো সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সান্দ্রা পরে স্বীকার করেছিল যে প্রতিদিনের মত সে দিনের সকালের চায়ের কাপে তাকে অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন ওষুধটা খাওয়ার পরই সে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিল। চার্লাকে দেখার পর সে আরও রেগে গিয়েছিল তার চুলের আকৃতি দেখে ।

ক্ষতবিক্ষত চার্লা 

স্বামীহারা সান্দ্রা ১৪ বছর ধরে ট্রাভিসকে নিজের ছেলের মতো করে আগলে রেখেছিলেন । মাইক্রোওয়েভে রান্না করা খাবার ও রাতে ওয়াইন খাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই তার শরীর খারাপ দেখা দিয়েছিল । চার্লাকে সে এমন ভাবেই ক্ষতবিক্ষত করেছিল যে তাকে চেনা যাচ্ছিল না। তার জীবন বাঁচাতে ও নৃশংস হামলার ফলে তার অর্ধেক মুখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং পরে তার মুখ প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।